
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ), প্রতিনিধি
মালয়েশিয়ায় নিজ বাসায় খুন হয়েছেন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক। নিহতের নাম আলম শেখ (৪৮)। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন।
নিহত আলম শেখ মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের নয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই গ্রামের মৃত মফিজ শেখের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের ক্লাং এলাকার কামপুং জাওয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকায় বসবাসরত শহীদুল নামের এক ব্যক্তির সুপারিশে আলম শেখ তার পরিচিত দুই ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায় বেড়াতে নিয়ে যান। ওই দুইজনের নাম ফারুক ও পান্নু, তাদের বাড়ি বরিশালের ঝালকাঠি জেলায় বলে জানা গেছে।
নিহতের বড় ভাই শাহ আলম জানান, চলতি মাসের ১০ তারিখে আলমের দেশে ফেরার কথা ছিল। এ জন্য তিনি টিকিটসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। দেশে ফেরার আগে অতিথি হিসেবে সঙ্গে থাকা ফারুক ও পান্নুকে নিয়ে কেনাকাটাও করেন। এ সময় স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী কেনা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এসব মূল্যবান জিনিসপত্রই কাল হয়ে দাঁড়ায় আলমের জীবনে।
পরিবারের বর্ণনায় জানা যায়, ৩১ জানুয়ারি ফারুক ও পান্নু আলমকে বাসায় রেখে বাইরে ঘুরতে যান। কিছু সময় পর তারা ফিরে এসে কলিং বেল চাপ দিলে আলম ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে দেন এবং আবার শুয়ে পড়েন। এরপর দুইজন বাসায় ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় আলমকে শ্বাসরোধ করে ও মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর তারা আলমের পাসপোর্ট, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায় এবং বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়।
পরে বিকেলে আশপাশের লোকজন দীর্ঘ সময় সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে চেয়ারে বসা অবস্থায় আলমের মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মালয়েশিয়ার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় মালয়েশিয়ায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ দুই একদিনের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে নিহতের পরিবার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
নিহতের পরিবার স্থানীয়ভাবে লৌহজং থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, যেহেতু ঘটনাটি বিদেশে সংঘটিত হয়েছে, তাই স্থানীয় থানায় অভিযোগ গ্রহণের সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি মালয়েশিয়ায় হওয়ায় এখান থেকে আইনগতভাবে কোনো মামলা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
বৃহস্পতিবার নিহত আলম শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ স্বজনরা শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
Leave a Reply