
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১২০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জিএম এবং তার মা, ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সাবেক সহ-সভাপতি পুটুনি বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৯ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার একটি অংশ দখল করে রাখায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প এবং স্থানীয়দের নিজস্ব অর্থায়নে চলমান রাস্তা সংস্কারের কাজও বন্ধ হয়ে পড়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হলদিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া দীঘিরপাড় জামে মসজিদ থেকে বোদাইশা ফকিরের বাড়ি পর্যন্ত ১ হাজার ৮৬০ মিটার দীর্ঘ সড়কের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৪০ মিটার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি আরও ৩৫০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য ৭ লাখ ৪০ হাজার ৪৬০ টাকা সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে রাস্তার প্রায় ২০ ফুট অংশ বেড়া দিয়ে আটকে রাখায় ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না। পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগে রাস্তার দুই পাশে প্রতিরক্ষা দেয়াল (প্যালাসাইটিং) নির্মাণের কাজও স্থগিত রয়েছে।এলাকাবাসী জানান, রাস্তা প্রশস্ত করার স্বার্থে আশপাশের অধিকাংশ জমির মালিক স্বেচ্ছায় ৪ ফুট করে জমি ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু অভিযুক্ত পরিবার জমি না দিয়ে উল্টো রাস্তার অংশ দখল করে বেড়া নির্মাণ করেছে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে না পারলেও এখন স্থানীয়রা একযোগে এর প্রতিকার দাবি করছেন।এদিকে রাস্তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগেও কাজ চলছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক শিক্ষা সম্পাদক মোস্তফা কামাল মুকুট ব্যক্তিগত অর্থায়নে ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে পুকুরসংলগ্ন অংশে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নিজস্ব অর্থায়নে প্রয়োজনীয় কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।স্থানীয়দের দাবি, নতুন সরকারি বরাদ্দের কাজ দ্রুত শুরু করতে হলে অবিলম্বে রাস্তার ওপর দেওয়া বেড়া অপসারণ করতে হবে। এ বিষয়ে তারা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অসীম আহমেদের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল সালাম আজাদকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন।ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, অন্যদের মতো অভিযুক্ত পরিবারও রাস্তার জন্য নির্ধারিত ৪ ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়ে জনগণের চলাচল স্বাভাবিক করুক। একই সঙ্গে তারা লৌহজং উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply